ONLINE GD

জিডি করার প্রক্রিয়াকে আরো সহজ ও সুবিধাজনক করতে অনলাইন জিডি (Online GD) সেবা ব্যবহার করুন। যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থান থেকে প্রয়োজনীয় তথ্য দিয়ে জিডির আবেদন সম্পন্ন করুন।

ঘরে বসে সহজেই অনলাইনে সাধারণ ডায়েরি (Online GD) করার সুযোগ চালু করেছে বাংলাদেশে পুলিশ। এর ফলে সাধারণ ডায়েরি (GD) করার জন্য আপনাকে থানায় ছুটতে হবে না। ঘরে বসেই আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোন বা কম্পিউটারের সাহায্যে Online GD করতে পারবেন।

হরানো মোবাইল ফোন, গুরুত্বপূর্ণ কাগজপত্র, দলিল বা অন্য কোনো ঘটনার বিষয়ে দ্রুত সাধারণ ডায়েরি করতে চাইলে Online GD সেবা বর্তমানে বেশ কার্যকর একটি সেবা। এর ফলে কম সময়ে, দ্রুত এবং সহজে জিডি বা সাধারণ ডায়েরি করা যায়। Online GD কিভাবে করবেন, কি কি প্রয়োজন, ইত্যাদি সকল বিষয় আমাদের ওয়েবসাইট থেকে জানতে পারবেন।

অনলাইন জিডি (Online GD) কি?

Online GD (অনলাইন জিডি) হলো পুলিশের সাধারণ ডায়েরি করার একটি ডিজিটাল পদ্ধতি। এর মাধ্যমে নির্দিষ্ট কিছু ঘটনা বা হারানো জিনিসের বিষয়ে ঘরে বসে অনলাইনে আবেদন করা যায়। সাধারণত জিডি করতে আমাদেরকে নিকটস্থ থানায় জেনে হয় তারপর সেখানে অপেক্ষা করে জিডি করতে হয়। যেটি একটি সময় সাপেক্ষ প্রক্রিয়া। কিন্তু, অনলাইন জিডি করলে আপনাকে থানায় আর যেতে হবে না। অনলাইনের মাধ্যমে এই সেবাটি গ্রহণ করতে পারবেন।

সহজ ভাষায়, সাধারণভাবে থানায় গিয়ে জিডি করার পরিবর্তে অনলাইন প্ল্যাটফর্ম ব্যবহার করে প্রয়োজনীয় তথ্য ও ঘটনার বিবরণ জমা দেওয়াই হচ্ছে অনলাইন জিডি (Online GD)।

অনলাইন জিডি (Online GD) অ্যাপ এবং ওয়েব পোর্টাল ব্যবহারের সুবিধা

অনলাইন জিডি মোবাইল অ্যাপ অথবা ওয়েব পোর্টাল ব্যবহার করে অনলাইনের মাধ্যমে জিডি করা যায়। অনলাইনের মাধ্যমে জিডি করলে আপনি কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারবেন। তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু সুবিধা হলোঃ

  • খুব সহজে আপনার অভিযোগটি পুলিশকে জানতে পারবেন।
  • আপনার অভিযোগের সর্বশেষ অবস্থা জানতে পারবেন। অর্থাৎ আপনার অভিযোগটি বর্তমানে কি অবস্থায় আছে যেমনঃ প্রক্রিয়াধীন, ডিউটিরত কর্মকর্তা নিয়োগ, সম্পন্ন ইত্যাদি জানতে পারবেন।
  • আপনার অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তার সঙ্গে অনলাইনে যোগাযোগ করতে পারবেন।
  • অনলাইনে আপনার অভিযোগের (জিডি) কপি ডাউনলোডসহ ডিজিটাল কপি অন্য কাউকে প্রেরণ করতে পারবেন।

অনলাইনে যে সকল বিষয়ের জিডি করা যায়

সরাসরি পুলিশ অফিসে বা থানায় গিয়ে যেসকল বিষয়ে জিডি করা যায় অনলাইনেও সেই সকল বিষয়ে জিডি করা যায়। এসবের মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু হলোঃ

  • মোবাইল ফোন হারিয়ে গেলে।
  • জাতীয় পরিচয়পত্র বা NID হারিয়ে গেলে।
  • পাসপোর্ট হারিয়ে গেলে।
  • সার্টিফিকেট বা শিক্ষাগত কাগজপত্র হারিয়ে গেলে।
  • গুরুত্বপূর্ণ দলিল বা কাগজপত্র হারিয়ে গেলে।
  • অন্যান্য ব্যক্তিগত গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারিয়ে গেলে।
  • নির্দিষ্ট কিছু ঘটনার বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করতে হলে।

Online GD করার সুবিধা

অনলাইন জিডি ব্যবস্থার মাধ্যমে নাগরিকরা বেশ কিছু সুবিধা ভোগ করতে পারে। এসব সুবিধার মধ্যে উল্লেখযোগ্য কিছু সুবিধা হলোঃ

  • ঘরে বসে আবেদন করার সুবিধা।
  • থানায় যাওয়ার প্রয়োজন কিছু ক্ষেত্রে কমে যায়।
  • দ্রুত তথ্য জমা দেওয়া যায়।
  • আবেদনের তথ্য সংরক্ষণ করা যায়।
  • জিডির অগ্রগতি সম্পর্কে তথ্য পাওয়ার সুযোগ থাকে।
  • হারানো গুরুত্বপূর্ণ জিনিসের বিষয়ে দ্রুত রিপোর্ট করার সুযোগ পাওয়া যায়।

Online GD করার জন্য যা যা প্রয়োজন

অনলাইন জিডি করার জন্য অবশ্যই কিছু জিনিস প্রয়োজন হবে। যেগুলো ছাড়া আপনার অনলাইন জিডি করা সম্ভব হবে না। এসকল কিছু জিনিসের মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলোঃ

  • Online GD পোর্টালে অ্যাকাউন্ট
  • সচল মোবাইল নাম্বার
  • ঘটানার তারিখ ও সময়
  • ঘটনার স্থান
  • হারানো বা সংশ্লিষ্ট জিনিসের বিস্তারিত তথ্য
  • ঘটনার সংক্ষিপ্ত ও পরিষ্কার বিবরণ
  • প্রয়োজন অনুযায়ী সংশ্লিষ্ট কাগজপত্র বা তথ্য

ইত্যাদি। তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ যে বিষয়টি সেটি হচ্ছে অনলাইন জিডি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট। অনলাইন জিডি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট ছাড়া আপনি অনলাইনে জিডি করতে পারবেন না। এজন্য আমাদের শুরুতেই একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে।

অনলাইনে জিডি করার জন্য Online GD Portal এ একটি অ্যাকাউন্ট থাকতে হবে। অ্যাকাউন্ট ছাড়া অনলাইনে জিডি করা সম্ভব নয়। কিভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি করবেন শুরুতে তা জেনে নেই। এরপর সেই অ্যাকাউন্ট দিয়ে কিভাবে অনলাইনে জিডি করবেন তা জানব।

অনলাইন জিডি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি করার নিয়ম

অ্যাকাউন্ট ছাড়া আপনি অনলাইনে জিডি করার সুবিধা নিতে পারবেন না। এজন্য শুরুতেই আপনাকে আপনার তথ্য দিয়ে একটি অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিতে হবে। যে অ্যাকাউন্ট দিয়ে পরবর্তীতে পোর্টালে লগিন করে জিডি করতে পারবেন।

অ্যাকাউন্ট তৈরির জন্য যা প্রয়োজনঃ

  • স্মার্টফোনঃ অনলাইন জিডি পোর্টালে অ্যাকাউন্ট তৈরি করার জন্য অবশ্যই আপনার কাছে একটি স্মার্টফোন থাকতে হবে। স্মার্টফোন ছাড়া আপনি অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে পারবেন না। কেননা, নির্দিষ্ট একটি অ্যাপ ডাউনলোড করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে।
  • সচল মোবাইল নাম্বারঃ পরবর্তীতে লগিন করার সময় বা আপনার সাথে যোগাযোগ করার জন্য একটি সচল মোবাইল নাম্বারের প্রয়োজন হবে। মোবাইল নাম্বারটি অবশ্যই OTP ভেরিফিকেশন করতে হবে।
  • জাতীয় পরিচয় পত্রঃ আপনার ভোটার আইডি কার্ডের নাম্বার ও জন্ম তারিখ প্রয়োজন হবে।
  • আপনার উপস্থিতিঃ যার অ্যাকাউন্ট তৈরি করা হবে তার উপস্থিতি থাকতে হবে। কারণ, লাইভ ছবি গ্রহণের মাধ্যমে আপনার NID ও অ্যাকাউন্ট ভেরিফিকেশন করা হবে।

ধাপ ১ঃ Online GD App ডাউনলোড

ধাপ ১ঃ Online GD App ডাউনলোড

অনলাইন জিডি পোর্টালে রেজিস্ট্রেশন করতে শুরুতেই আপনাকে Online GD App টি ডাউনলোড করতে হবে। গুগল প্লে স্টোরে সার্চ করে সহজেই অ্যাপটি ডাউনলোড করে আপনার স্মার্টফোন ইন্সটল করতে পারবেন। অথবা নিচের লিংকটি অনুসরণ করে অ্যাপটি ডাউনলোড করুন।

শুধুমাত্র এন্ড্রয়েড ব্যবহাকারীরা অ্যাপটি ব্যবহার করতে পারবেন। আইফোন ব্যবহারকারীদের জন্য বর্তমানে এই অ্যাপ উপলব্ধ নয়।

ধাপ ২ঃ অ্যাপ ওপেন ও নিবন্ধন

ধাপ ২ঃ অ্যাপ ওপেন ও নিবন্ধন

অ্যাপটি ডাউনলোড করা হলে হয়ে গেলে অ্যাপটিকে ওপেন করে নিন। এরপর অ্যাপটিকে আপনার স্মার্টফোনে চালানোর জন্য প্রয়োজনীয় সকল পার্মিশন দিন। যেমনঃ নোটিফেকশন, ক্যামেরা, গ্যালারী ইত্যাদি।

এখন, অ্যাপটির একদম নিচের বাম দিকে নিবন্ধন নামের একটি অপশন দেখতে পাবেন। নিবন্ধনে ক্লিক করুন তাহলে নিবন্ধন করার নির্দেশনা দেখতে পাবেন। এরপর পরবর্তী বাটনে ক্লিক করে পরবর্তী ধাপে চলে যান।

ধাপ ৩ঃ মোবাইল নাম্বার প্রদান ও ভেরিফাই

ধাপ ৩ঃ মোবাইল নাম্বার প্রদান ও ভেরিফাই

এখন আপনাকে আপনার সচল একটি মোবাইল নাম্বার প্রদান করতে হবে। আপনার সচল ১১ ডিজিটের মোবাইল নাম্বারটি প্রদান করুন। প্রদান করা হয়ে গেলে সাবমিট অপশনে ক্লিক করুন।

সাবমিট অপশনে ক্লিক করার পর আপনার মোবাইলের একটি ৬ ডিজিটের ওটিপি আসবে। সেই ৬ ডিজিটের ওটিপিটি বসিয়ে সাবমিট করুন। তাহলে আপনার মোবাইল নাম্বারটি ভেরিফাই হয়ে যাবে। ওটিপি আসতে সময় লাগতে পারে এ জন্য ১-২ মিনিট অপেক্ষা করবেন। অপেক্ষা করার পরেও ওটিপি না আসলে নতুন করে ওটিপি পাঠাবেন।

ধাপ ৪ঃ জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই

ধাপ ৪ঃ জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই

এই ধাপে আপনাকে আপনার জাতীয় পরিচয় পত্রটি যাচাই করতে হবে। এজন্য জাতীয় পরিচয় সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় তথ্য প্রদান করতে হবে। জাতীয় পরিচয় যাচাই না করে আপনি পরবর্তী ধাপে জেতে পারবেন না। জাতীয় পত্র সম্পর্কিত প্রয়োজনীয় সকল তথ্য প্রদান করে জাতীয় পরিচয় পত্র যাচাই করে নিন এবং পরবর্তী ধাপে যান।

যেহেতু জাতীয় পরিচয় পত্র তথ্য যাচাই করতে হবে তাই অনলাইনে জিডি করতে গেলে আপনার অবশ্যই জাতীয় পরিচয় পত্র থাকতে হবে। জাতীয় পরিচয় পত্র না থাকলে NID Service পোর্টাল থেকে জাতীয় পরিচয় পত্র করে নিবেন। জাতীয় পরিচয় পত্র অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এটি ছাড়া আপনি অনেক সরকারি সেবা গ্রহণ করতে পারবেন না। অনলাইন জিডি করারকেই একটি উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন।

ধাপ ৫ঃ ফেস ভেরিফিকেশন

ধাপ ৫ঃ ফেস ভেরিফিকেশন

জাতীয় পরিচয়পত্র যাচাই এর একটি অংশ হিসেবে ধরে নিয়ে পারেন। এক জনের জাতীয় পরিচয় পত্র দিতে যাতে অন্য কেউ অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে না পারেন এজন্য ফেস ভেরিফিকেশন করতে হবে। এতে করে যার জাতীয় পরিচয় পত্র তার উপস্থিতি ছাড়া অ্যাকাউন্ট তৈরি করা সম্ভব হবে না।

ফেস ভেরিফেকশনের সময় অ্যাপ থেকে আপনা-আপনি ক্যামেরা চালু হবে। যদি অ্যাপ ক্যামেরা চালু করার অনুমতি চায় তাহলে দিয়ে দিবেন। এখন অ্যাপের নির্দেশনা মেনে ক্যামেরা দিকে তাকিয়ে কার্যকলাপগুলো সম্পন্ন করুন। যেমনঃ ডানে তাকান, বামে তাকান, চোখের পলক ফেলুন, মুখ খুলুন ইত্যাদি।

এসকল নির্দেশনা মেনে ফেস ভেরিফিকেশন করুন। ফেস ভেরিফিকেশন সম্পন্ন হলে আপনাকে আপনা-আপনি পরবর্তী ধাপে নিয়ে যাবে।

ধাপ ৬ঃ ঠিকানার তথ্য প্রদান

ধাপ ৬ঃ ঠিকানার তথ্য প্রদান

এখন আপনাকে আপনার ঠিকানার তথ্য প্রদান করতে হবে। জাতীয় পরিচয় পত্র অনুসারে তথ্য প্রদান করবেন। আপনার বিভাগ, জেলা, থানা, ইউনিয়ন/ সিটি কর্পোরেশন, গ্রাম ও স্থানের বিবরণ সঠিক ভাবে প্রদান করে পরবর্তী ধাপে যাবেন।

ধাপ ৭ঃ সাক্ষর প্রদান

ধাপ ৭ঃ সাক্ষর প্রদান

এই ধাপে আপনাকে আপনার সাক্ষর (Signature) ডিজিটাল ভাবে প্রদান করতে হবে। সাক্ষর দেওয়ার জন্য একটি টাচ প্যাড ফোনের স্কিনে দেখতে পাবেন। সেখানে আপনার সাক্ষরটি আঙ্গুল দিয়ে বা টাচ পেন দিয়ে এঁকে দিবেন। সাক্ষর দেওয়া হয়ে গেলে সংরক্ষণ করে পরবর্তী ধাপে যাবেন।

ধাপ ৮ঃ অ্যাকাউন্ট তৈরি

ধাপ ৮ঃ অ্যাকাউন্ট তৈরি

এবার আপনাকে অ্যাকাউন্ট তৈরি জন্য আপনার ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড প্রদান করতে হবে। পাসওয়ার্ড এর জন্য অবশ্যই কমপক্ষে একটি বিশেষ অক্ষর, একটি বড় অক্ষর এবং সংখ্যা সহ সর্বনিম্ন ৮ টি অক্ষর নির্বাচন করতে হবে।

ই-মেইল ও পাসওয়ার্ড প্রদান করে সাবমিট করার মাধ্যমে আপনার অ্যাকাউন্ট তৈরি সম্পন্ন হবে। মোবাইল নাম্বার, ইমেইল ও পাসওয়ার্ড সংরক্ষণ করে রাখুন পরবর্তীতে লগিন করার জন্য।

অনলাইন জিডি (Online GD) করার নিয়ম

কিভাবে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যমে জিডি করবেন চলুন জেনে নেই। ধাপে ধাপে কাজগুলো করবেন তাহলে খুব সহজেই অনলাইন জিডি করতে পারেবন। Online GD করার পদ্ধতি খুব একটা কঠিন না। ধাপগুলো অনুসরণ করে অনলাইনে জিডি করে ফেলুন।

তবে, দুইটি উপায় অবলম্বন করে Online GD করা যায়। একটি হচ্ছে Online GD App। যে অ্যাপটির মাধ্যমে আমরা অ্যাকাউন্টটি তৈরি করেছি এবং আর একটি উপায় হচ্ছে Online GD Web Portal ব্যবহার করে। দুটি মাধ্যম ব্যবহার করে কিভাবে জিডি করবেন সেই দুটিই জানব। এতে করে আপনিই আপনার সুবিধা অনুযায়ী মাধ্যমে ব্যবহার করতে পারবেন।

Online GD App এর মাধ্যমে জিডি করার নিয়ম

স্মার্টফোন থেকে Online GD অ্যাপ ব্যবহার করে খুব সহজেই অনলাইনে জিডি করা যায়। যদিও এই অ্যাপ ছাড়া অ্যাকাউন্ট রেজিস্ট্রেশন করা যায় না। তাই অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইন জিডি করলে সহজে ও কম সহজে জিডি করা যাবে।

অ্যাপ ব্যবহার করে জিডি করার পাশাপাশি জিডির বর্তমান অবস্থা, কোন আবেদন গৃহীত হয়ে কি হয়নি তা জানতে পাওয়া, তদন্তাধীন জিডি, নিষ্পত্তিকৃত জিডি ইত্যাদি সম্পর্কে সহজেই জানতে পারবেন। তাহলে চলুন কিভাবে অ্যাপ ব্যবহার করে অনলাইন জিডি করবেন জেনে নেই।

ধাপ ১ঃ Online GD অ্যাপ ওপেন ও লগিন করুন

Online GD অ্যাপ ওপেন ও লগিন করুন

অ্যাপের মাধ্যমে জিডি করার জন্য শুরুতেই আমাদের অ্যাপটি ওপেন করে আপনার মোবাইল নাম্বার ও পাসওয়ার্ড দিয়ে অ্যাকাউন্টে লগিন করে নিতে হবে। কিভাবে অ্যাকাউন্ট তৈরি করতে হবে তা ইতিমধ্যে ধাপে ধাপে দেখানো হয়েছে। অ্যাকাউন্ট তৈরি করা না থাকলে ধাপগুলো অনুসরণ করে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে লগিন করুন।

ধাপ ২ঃ জিডি এর ধরন নির্বাচন করুন

জিডি এর ধরন নির্বাচন করুন

অ্যাপে লগিন করার পর জিডি এর জন্য আবেদন করার তিন ধরনের অপশন পাবেন। সেগুলো হচ্ছেঃ

  • হারানো
  • পাওয়া
  • অন্যান্য আবেদন

আপনার কোন জিনিস হারিয়ে গেলে সেই সংক্রান্ত জিডি করতে চাইল হারানো অপশনে ক্লিক করবেন, কোন জিনিস খুঁজে পেলে সেই সংক্রান্ত জিডি করতে চাইলে পাওয়া অপশনে ক্লিক করবেন এবং যদি দুটির কোনটিই না হয় তাহলে অন্যান্য আবেদনে ক্লিক করবেন।

ধাপ ৩ঃ তথ্য এন্ট্রি

তথ্য এন্ট্রি

হারানো বা পাওয়া অপশন ক্লিক করলে কি ধরনের জিনিস হারিয়েছেন বা পেয়েছেন তা নির্বাচন করতে হবে। এখানে যেসকল অপশনগুলো পাবেনঃ

  • যানবাহন
  • কম্পিউটার
  • মোবাইল
  • ডকুমেন্ট
  • কার্ড সমূহ
  • গহনা
  • অন্যান্য

আপনি যে জিনিসটি হারিয়েছেন বা পেয়েছেন তা নির্বাচন করে দিবেন। এরপর ধাপ ধাপে প্রয়োজনীয় তথ্যগুলো এন্ট্রি করে দিবেন।

উদাহরণ হিসেবে ধরে নিলাম হারিয়ে যাওয়া যানবাহনের জন্য জিডি করবেন সেক্ষেত্রে যানহবান নির্বাচন করবেন এরপর আপনার যানবাহনের প্রয়োজনীয় তথ্য দিবেন যেমনঃ আপনার যানবাহনের ধরন, গাড়ির চেসিস নং, গাড়ির রেজিস্ট্রশন নং, কবে ও কখন হারিয়ে গেছে সেই তারিখ এবং সময়, হারানোর স্থান ইত্যাদি। এভাবে প্রয়োজনীয় সকল তথ্য দিয়ে হারানো বা পাওয়া জিনিসের জিডির আবেদনের তথ্য ইন্ট্রি করবেন। এছাড়া কোন প্রয়োজনীয় ডকুমেন্ট লাগলে তা যুক্ত করে নিবেন।

যদি ধাপ ২ এ আপনি অন্যান্য অপশন নির্বাচন করবেন তাহলে ধাপ ৩ এর তথ্য এন্ট্রি এর কোন অপশন আসবে না। আপনাকে সরাসরি আবেদনে নিয়ে যাবে। যেসকল অপশন নির্বাচন করে আবেদন করতে পারবেন –

  • অজ্ঞাত ফোন নাম্বার থেকে লটারি জেতা
  • অজ্ঞাত ফোন নাম্বার থেকে জ্বিনের বাদশা সংক্রান্ত
  • অজ্ঞাত ফোন নাম্বার থেকে হুমকি
  • জোড় পূর্বক প্রেমের প্রস্তাব দিয়ে বিরক্ত করণ
  • অজ্ঞাত ফোন নাম্বারে বিরক্ত করণ
  • জমি জমা সংক্রান্তে হুমকি ধামকি
  • লাইন্সেসধারী অস্ত্র ও গুলি থানায় জমা রাখা সংক্রান্তে
  • পাবলিক অস্ত্র ও গুলি হারানো সংক্রান্তে (লাইন্সেসধারী)
  • পারিবারিক কলহে আত্মহত্যার হুমকি
  • পারিবারিক কলহে হুমকি-ধামকি পাবিবারিক কলহ সংক্রান্তে (অশ্লীল ভাষা)
  • প্রকাশ্যে প্রাণ নাশের হুমকি
  • প্রেমের সম্পর্কে হয়রানির হুমকি
  • পূর্বশত্রূতার জেরে হুমকি প্রদান
  • ফেসবুক বা অন্যকোন ইলেক্ট্রনিক মাধ্যমের আইডি হ্যাক করে অপপ্রচার, হুমকি প্রদান বা অশ্লীল গালাগাল
  • ফেসবুক,ইমেইল,জিমেইল,ইন্সটাগ্রাম,টুইটার,হোয়াটসঅ্যাপ, আইডি হ্যাক
  • ফেসবুকে ফেইক আইডি দিয়ে অপপ্রচার বা হয়রানি
  • মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/রকেট/নগদ) এর মাধ্যমে করে টাকা নেওয়া সংক্রান্ত
  • মোবাইল ব্যাংকিং (বিকাশ/রকেট/নগদ) এর টাকা ভুলবশত অন্য নাম্বারে চলে যাওয়া
  • রাস্তাঘাটে যৌন হয়রানির অভিযোগ
  • ধারের টাকা ফেরৎ না দেওয়া সংক্রান্তে
  • সাধারন ডায়রী প্রত্যাহার করার আবেদন
  • অভিযোগ প্রত্যাহারের আবেদন
  • নিখোঁজ সংক্রান্তে সাধারন ডায়রী প্রত্যাহার করার আবেদন
  • মানুষ হারানোর বিষয়ে সাধারন ডায়রী করার আবেদন
  • যানবাহন সড়ক দুর্ঘটনায় পতিত হইয়া ক্ষতিগ্রস্থ হওয়া সংক্রান্তে সাধারন ডায়রীর আবেদন
  • অনলাইন বিজনেস সংক্রান্ত
  • আগুন লেগে ক্ষতি হওয়া সংক্রান্তে সাধারণ ডাইরীর আবেদন
  • প্রকৃতিক দূর্যোগে ক্ষতি হওয়া সংক্রান্তে সাধারণ ডাইরী করার আবেদন

ধাপ ৪ঃ জিডির আবেদন সাবমিট

এন্ট্রি করা সকল তথ্য পুনরায় যাচাই করে নিন। সকল তথ্য যদি ঠিকাঠাক থাকে তাহলে জিডির আবেদন সাবমিট করুন। জিডি সাবমিট করার পর আপনার রেজিস্ট্রেশন করা মোবাইলে নাম্বারে একটি OTP আসবে। OTP ভেরিফাই করে নিবেন। OTP ভেরিফাই হয়ে গেলে আপনার জিডি করা সফল হয়ে যাবে। আপনার ফোনে একটি মেসেজ আসবে Your Application Successfully Submitted এবং সাথে ফোনের স্কিনেও Application Successful দেখতে পারবেন।

এভাবে ঘরে বসে অনলাইনের মাধ্যেম আপনার হাতে থাকা স্মার্টফোনের মাধ্যমে Online GD করতে পারবেন। জিডি করা শেষে জিডির অনলাইন কপি ডাউনলোড করে সংরক্ষণ করে রাখতে পারেন।

ওয়েব পোর্টালের মাধ্যমে Online GD করার নিয়ম

স্মার্টফোন ছাড়াও অনলাইন ওয়েব পোর্টাল বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে আপনি অনলাইন জিডি (Online GD) করতে পারেন। কিভাবে করবেন চলুন তা ধাপে ধাপে জেনে নেই।

ধাপ ১ঃ gd.police.gov.bd ওয়েব পোর্টেলে ভিজিট ও লগিন

gd.police.gov.bd ওয়েব পোর্টেলে ভিজিট

ওয়েব পোর্টাল বা ওয়েবসাইটের মাধ্যমে অনলাইন জিডি করার জন্য প্রথমে আপনাকে এই ওয়েবসাইট https://gd.police.gov.bd/ ভিজিট করতে হবে। ওয়েবসাইটে ভিজিট করার পর ন্যাভিগেশন মেনুতে প্রবেশ করুন (লগইন) নামের একটি অপশন পাবেন সেখানে ক্লিক করুন।

gd.police.gov.bd ওয়েব পোর্টেলে লগিন

ক্লিক করার পর একটি লগিন ইন্টারফেজ লোড হবে। এখানে আপনার রেজিস্টার করা মোবাইল নাম্বার ও অ্যাকাউন্টের পাসওয়ার্ড দিয়ে লগিন করে নিন। অ্যাকাউন্ট না থাকলে অ্যাকাউন্ট তৈরি করে নিবেন।

ধাপ ২ঃ জিডির আবেদন করুন

জিডি এর জন্য আবেদন

লগিন করার পর আপনি উপরের স্কিনশটের মতোন একটি ইন্টাফেস দেখতে পাবেন। এখন জিডি এর আবেদন অপশনে ক্লিক করুন অনলাইনে জিডি করার জন্য।

জিডির আবেদনের ধরন নির্বাচন

এখন কোন বিষয়ে জিডি করতে চান সেই অপশনে ক্লিক করুন। এখানে চার ধরনের অপশন পাবেন।

  • কোনো কিছু হারিয়ে গেলে জিডির জন্য “হারানো” নির্বাচন করুন।
  • কোনো কিছু খুঁজে পেলে জিডির জন্য “পাওয়া” নির্বাচন করুন।
  • কোনো ব্যক্তি নিখোঁজ সংক্রান্ত জিডির জন্য “নিখোঁজ” নির্বাচন করুন।
  • উপরের ক্যাটাগরিগুলোর অন্তর্ভুক্ত নয় এমন জিডির জন্য “অন্যান্য” নির্বাচন করুন।

আপনি যেই সংক্রান্ত বিষয়ে জিডি করতে চান সেটি সেই অপশনের সাথে সম্পর্কিত সেটিকে ক্লিক করে নির্বাচন করুন।

আবেদনের ধরন নিশ্চিত করা

এরপর ঠিক আছে, পরবর্তী ধাপ বাটনে ক্লিক করুন।

ধাপ ৩ঃ তথ্য প্রদান

জিডির জন্য তথ্য প্রদান

হারিয়ে যাওয়া বা পাওয়া সংক্রান্ত জিডি হলে কি হারিয়ে গেছে তা নির্বাচন করার অনেক অপশন পাবেন। এখানে থেকে প্রয়োজনীয় অপশনটিকে নির্বাচন করুন। ওই অপশনটি না থাকলে অন্যান্য অপশন নির্বাচন করে নিবেন।

জিডির জন্য তথ্য প্রদান ২

অপশন নির্বাচন করার পর সেই অপশন সংক্রান্ত বিভিন্ন ধরনের তথ্য প্রদান করবেন। যদি নিখোঁজ বা অন্যান্য সংক্রান্ত জিডি করেন তাহলে আপনাকে সরাসরি জিডির আবেদন পৃষ্টায় নিয়ে যাওয়া হবে। অ্যাপের মতোনই অন্যান্য অপশনে অনেক রকমের অপশন দেখতে পাবেন।

ধাপ ৪ঃ জিডির আবেদন সবমিট

সকল তথ্য ঠিকঠাক ভাবে প্রদান করার পর জিডির আবেদনের জন্য সাবমিট করুন। সাবমিট করার পর আপনার মোবাইল নাম্বার OTP এর মাধ্যমে ভেরিফাই করতে হবে। ভেরিফাই করা সফল হলে আপনার অনলাইনে জিডি করা হয়ে যাবে।

জিডির আবেদন সফল হলে আপনার রেজিস্টার করা মোবাইল নাম্বারে একটি নিশ্চিতকরণ বার্তা আসবে। সাথে আপনার কম্পিউটারের স্কিনে নিশ্চিতকরণ মেসেজ দেখতে পাবেন। জিডি করা শেষে আপনি চাইলে জিডির অনলাইন কপি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন।

Online GD করার পর যা হয়

অনলাইনে জিডির আবেদন জমা দেওয়ার পর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আবেদনটি যাচাই করবে। প্রয়োজন অনুযায়ী পুলিশ আবেদনকারীর সঙ্গে যোগাযোগ করবে বা পরবর্তী পদক্ষেপ সম্পর্কে জানাবে।

তাই জিডি করার সময় দেওয়া মোবাইল নম্বর সচল রাখা এবং নিয়মিত আবেদনটির অবস্থা দেখার চেষ্টা করবেন।

Online GD এর কিভাবে কিভাবে পাওয়া যায়?

অনলাইন জিডি (Online GD) এর আবেদন সম্পন্ন হওয়ার পর সেখানে থেকে আবেদন প্রিন্ট কপি ডাউনলোড করে নিতে পারবেন। এটি অনলাইন আবেদনের সাথে সাথে করতে পারবেন। এছাড়া আপনার অ্যাকাউন্টে লগইন করে আবেদনটির বর্তমান অবস্থা ও সংশ্লিষ্ট তথ্য দেখতে পারেন।

জিডির আবেদন কপি, জিডির নম্বর বা আবেদন সংক্রান্ত তথ্য ভবিষ্যতে প্রয়োজন হতে পারে। তাই এগুলো নিরাপদ জায়গায় সংরক্ষণ করে রাখুন।

Online GD সম্পর্কিত গুরুত্বপূর্ণ সতর্কতা

অনলাইনে জিডি করার সময় অবশ্যই সঠিক তথ্য দিতে হবে। ইচ্ছাকৃতভাবে ভুল, মিথ্যা বা বিভ্রান্তিকর তথ্য দেওয়া উচিত নয়। ভুল তথ্য প্রদান করে অনলাইনে জিডি করেল আপনি আইনি জটিলতায় পড়তে পারেন।

এছাড়া নিজের অ্যাকাউন্টের মোবাইল নাম্বার, ই-মেইল, পাসওয়ার্ড, OTP বা অন্যান্য নিরাপত্তা তথ্য কখনো অন্য কারো সাথে শেয়ার করবেন না।

কোনো ঘটনা যদি গুরুতর অপরাধ, হুমকি বা তাৎক্ষণিক বিপদের সঙ্গে সম্পর্কিত হয়, তাহলে শুধু অনলাইন জিডির ওপর নির্ভর না করে দ্রুত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সহায়তা নেওয়া উচিত।

প্রায়শই জিজ্ঞাসিত প্রশ্ন (FAQ)

অনলাইনে কি জিডি করা যায়?

হ্যাঁ, বাংলাদেশ পুলিশের নির্ধারিত অনলাইন ব্যবস্থার মাধ্যমে নির্দিষ্ট ধরনের ঘটনা, হারানো ও পাওয়া জিনিসের বিষয়ে অনলাইনে জিডির আবেদন করা যায়।

Online GD করার জন্য কি থানায় যেতে হয়?

অনলাইনে আবেদন করার ক্ষেত্রে শুরুতেই থানায় যাওয়ার প্রয়োজন নাও হতে পারে। তবে আবেদন বা ঘটনার ধরন অনুযায়ী পরবর্তীতে পুলিশ কর্তৃপক্ষ থানায় যোগাযোগ করতে বলতে পারে।

Online GD করতে কি NID প্রয়োজন?

আবেদনকারীর পরিচয় যাচাইয়ের জন্য জাতীয় পরিচয়পত্রসহ প্রয়োজনীয় ব্যক্তিগত তথ্য প্রয়োজন। এছাড়া অনলাইন জিডি করার জন্য অ্যাকাউন্ট তৈরিতে NID তথ্য ও NID তথ্য ভেরিফিকেশন করার প্রয়োজন পরে। NID ছাড়া Online GD অ্যাকাউন্ট তৈরি করা সম্ভব নয়। এ দিক দিয়ে NID কার্ড ছাড়া অনলাইন জিডি করা সম্ভব নয়।

Online GD করার পর কীভাবে বুঝব আবেদনটি গ্রহণ হয়েছে?

অনলাইনে আবেদন জমা দেওয়ার পর পাওয়া আবেদন নম্বর বা সংশ্লিষ্ট তথ্য ব্যবহার করে অনলাইন সিস্টেমে আবেদনের অবস্থা দেখা যাবে।

মোবাইল হারালে কি Online GD করা যায়?

হ্যাঁ, মোবাইল হারিয়ে গেলে অনলাইনে মোবাইল হারানোর জিডি করতে পারবেন। শুধুমাত্র মোবাইল নয় যেকোন হারানো জিনিসের জিডি অনলাইনে করতে পারবেন।

শেষ কথা

ডিজিটাল সেবার সম্প্রসারণের ফলে এখন বেশিরভাগ সরকারি সেবা অনলাইনের মাধ্যমে নেওয়া সম্ভব। Online GD তারই একটি উদাহরণ। কোনো গুরুত্বপূর্ণ জিনিস হারিয়ে গেলে বা সাধারণ ডায়েরির প্রয়োজন হলে সঠিক তথ্য দিয়ে অনলাইনে সাধারণ ডায়েরির জন্য আবেদন করা যায়।

তবে মনে রাখতে হবে, সব ধরনের ঘটনা অনলাইন জিডির আওতায় নাও পড়তে পারে। ঘটনার ধরন অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত বা পুলিশি ব্যবস্থা নেওয়াই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।